হাদীস শরীফের আলোকে দুরূদ শরীফ পাঠ করার ফযীলত:

  • অধিক পরিমাণে দুরূদ শরীফ পাঠকারী রসূলুল্লাহ্ ﷺ এর সবচেয়ে কাছে থাকবে। (বুখারী ফিত তারীখ, র্তিমিযী)
  • দুরূদ শরীফ পাঠ করা গুনাহের জন্য কাফ্ফারা হয়ে যায়। (আল-খাসায়িসুল কুবরা)
  • দুরূদ শরীফ পাঠকারীর জন্য পবিত্রতা ও বরকত লাভ হয়। (আহ্মাদ)
  • মাজ্লিসে দুরূদ শরীফ পাঠ করা ক্বিয়ামাতের দিন পাঠকারীর জন্য নূর হবে। (দায়লামী)
  • মাজ্লিসের মাঝে দুরূদ শরীফ পাঠ করলে পাঠকারী গুনাহ্মুক্ত হয়ে যাবে। (ইবনুন নাজ্জার)
  • আল্লাহ তা‘য়ালার নূরের তৈরী এমন কিছু ফিরিশ্তা রয়েছেন যারা জুমু‘য়ার রাত এবং জুমু‘য়ার দিন ছাড়া পৃথিবীতে অবতরণ করেন না। তাদের হাতে স্বর্ণের কলম এবং রৌপ্যের দোয়াত আর নূরের কাগজ থাকে। তারা নবী করীম ﷺ এর উপর দুরূদ পাঠ ব্যতীত অন্য কিছু লিখেন না। (দায়লামী)
  • দু‘য়া আল্লাহ তা‘য়ালা থেকে আড়ালে থাকে যতক্ষণ হযরত মুহাম্মাদ ﷺ এবং তাঁর পরিবার বর্গের উপর দুরূদ শরীফ পাঠ করা না হয়। (ইবনু হিব্বান)
  • দুরূদ শরীফ পাঠকারীর উপর রসূলুল্লাহ্ ﷺ দুরূদ পাঠ করেন এবং ১০ টি সৎকাজ লিখে দেন। (ত্বাবরানী শরীফ)
  • দুরূদ শরীফ পাঠকারীর জন্য রসূলুল্লাহ্ ﷺ ক্বিয়ামতের দিন শাফা‘য়াত করবেন। (জালাউল আফহাম)
  • কেউ রসূলুল্লাহ্ ﷺ কে সালাম দিলেই আল্লাহ্ তা‘য়ালা তাঁর রূহ ফিরিয়ে দেন; এমনকি তিনি ঐ ব্যক্তির সালামের জবাব দেন। (আহমাদ)
  • যে ব্যক্তি রসূলুল্লাহ্ ﷺ এর উপর দুরূদ শরীফ পাঠ করতে ভুলে গেল, সে জান্নাতের পথ ভুলে গেল। (ইবনু মাজাহ্)
  • ১ বার দুরূদ শরীফ পাঠে আল্লাহ তা‘য়ালা ১০ বার দুরূদ পাঠ করেন এবং ১ বার সালাম দিলে আল্লাহ্ তা‘য়ালা ১০ বার সালাম প্রদান করেন। (আহমাদ)
  • ১ বার দুরূদ পাঠ করলে আল্লাহ্ তা‘য়ালা ১০টি সৎকাজ লিখে দেন, ১০টি গুনাহ মুছে দেন, ১০ ধাপ মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন এবং উহা ১০টি গোলাম আযাদ করার সমপরিমাণ হয়। (আত-তারগীব ওয়াত্ তারহীব)
  • ১ বার দুরূদ শরীফ পাঠে আল্লাহ তা‘য়ালা এবং তাঁর ফিরিশতাগণ পাঠকারীর উপর ৭০ বার দুরূদ পাঠ করেন। (আহমাদ)
  • ১ বার দুরূদ শরীফ পাঠে আল্লাহ তাঁর জন্য উহুদ পরিমাণ ছাওয়াব লিখে দেন। (মুসান্নাফু ‘আব্দির রায্যাক)
  • ১ বার দুরূদ শরীফ পাঠ করলেই একজন ফিরিশতা উহা নিয়ে ওপরে ওঠেন, এমনকি দয়াময় আল্লাহর সম্মুখে চলে আসেন। অতঃপর মহা প্রতাপশালী আল্লাহ বলেন: তোমরা এটা আমার বান্দা (রসূলুল্লাহ্ ﷺ) এর রওদ্বা শরীফে নিয়ে যাও, পাঠকের জন্য ক্ষমা প্রার্থণা কর। আর এরই মাধ্যমে তার চক্ষু শীতল হবে। (দায়লামী)
  • জুমু‘য়ার দিন ১ বার দুরূদ পাঠ করলে আল্লাহ্ এবং তাঁর ফিরিশতাগণ তার উপর ১০ লক্ষ বার দুরূদ পড়েন, তার জন্য ১০ লক্ষ সৎকাজ লেখা হয়, তার থেকে ১০ লক্ষ গুনাহ ক্ষমা করা হয় এবং তার মর্যাদা ১০ লক্ষ ধাপ বৃদ্ধি করে দেয়া হয়। (নুঝ্হাতুল মাজালিস)
  • ১ বার দুরূদ শরীফ পাঠ করলে আল্লাহ্ তা‘য়ালা তার দুরূদ থেকে দুডানাবিশিষ্ট ১ জন ফিরিশতা সৃষ্টি করবেন। এক ডানা প্রাচ্যে এবং অন্য ডানা পাশ্চাত্যে থাকবে। তার মাথা এবং ঘাড় ‘আরশের নিচে থাকবে। সে বলতে থাকবে, ‘হে আল্লাহ! আপনি আপনার বান্দার উপর ততক্ষণ রহমাত বর্ষণ করুন যতক্ষণ সে আপনার নবীর উপর দুরূদ শরীফ পাঠ করে। (আল-মুসতাত্বরাফ, খ. ২, পৃঃ ৬১১)
  • কোন কিতাবে দুরূদ শরীফ লিখে রাখলে রসূলুল্লাহ্ ﷺ এর নাম ঐ কিতাবে যতদিন থাকবে ততদিন ফিরিশতাগণ লেখকের জন্য ক্ষমা প্রার্থণা করতে থাকবে। (তাবরানী)
  • ৩ বার দুরূদ শরীফ পাঠ করবে আল্লাহ তা‘য়ালা তার উপর ১০বার রহমাত নাযিল করেন এবং জান্নাতে তার জন্য একটি প্রাসাদ নির্মাণ করেন। (র্শাহুস সুন্নাহ্)
  • প্রতিদিন ৩ বার এবং প্রতিরাতে ৩ বার করে দুরূদ শরীফ পাঠ করলে পাঠকারীর ঐ দিন এবং ঐ রাতের গুনাহগুলো ক্ষমা করা আল্লাহ্ তা‘য়ালার দায়িত্ব হয়ে যায়। (তাবরানী)
  • সকালে ১০ বার এবং বিকেলে ১০ বার দুরূদ শরীফ পাঠ করলে ক্বিয়ামাতের দিন সে রসূলুল্লাহ্ ﷺ এর শাফা‘য়াত লাভ করবে। (তাবরানী)
  • রসূলুল্লাহ্ ﷺ কে ১০ বার সালাম প্রদান করলে সে যেন একটি গোলাম আযাদ করল। (কিতাবুশ শিফা)
  • দৈনিক ৫০ বার দুরূদ শরীফ পাঠ করলে ক্বিয়ামাতের দিন রসূলুল্লাহ্ ﷺ পাঠকারীর সাথে মুসাফাহা করবেন। (ইবনু বাশকুয়াল)
  • জুমু‘য়ার দিন ৮০ বার দুরূদ শরীফ পাঠ করলে ৮০ বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। (দারু কুতনী)
  • দৈনিক ১০০ বার দুরূদ শরীফ পাঠ করলে আল্লাহ তা‘য়ালা তার ১০০টি প্রয়োজন পূরণ করে দেন। যার ৭০টি আখেরাতের প্রয়োজন। আর ৩০টি হচ্ছে দুনিয়ার প্রয়োজন। (ইবনুন নাজ্জার)
  • ১০০ বার দুরূদ শরীফ পাঠকারীর দুচোখের মাঝখানে আল্লাহ তা‘য়ালা নিফাক্ব ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি লিখে দেন। ক্বিয়ামাতের দিন তাকে শহীদদের সাথে রাখবেন। (তাবরানী)
  • জুমু‘য়ার দিন ১০০ বার দুরূদ শরীফ পাঠ করলে ক্বিয়ামাতের দিন সে ব্যক্তি তার সাথে একটি নূর নিয়ে উপস্থিত হবে। যদি ঐ নূর সকল সৃষ্টির মাঝে বন্টন করে দেয়া হত তাহলে তা তাদের (সকলের) জন্যই যথেষ্ট হয়ে যেত। (আবূ নু‘য়াইম)
  • জুমু‘য়ার দিন ও রাতে ১০০ বার দুরূদ শরীফ পাঠ করলে আল্লাহ্ তা‘য়ালা তার ১০০ টি প্রয়োজন পূরণ করেন। ৭০ টি আখেরাতের প্রয়োজন আর ৩০ টি দুনিয়ার প্রয়োজন। অতঃপর আল্লাহ তা‘য়ালা ঐ দুরূদের কারণে একজন ফিরিশতা নিযুক্ত করেন। যাকে এভাবে রওজা শরীফে প্রবেশ করান যেভাবে তোমাদের কাছে হাদিয়া প্রবেশ করে থাকে। উক্ত ফিরিশতা দুরূদ শরীফ পাঠকারীর নাম এবং তার বংশের ১০ জনের নাম উল্লেখ করে সংবাদ দেন। ফলে রসূলুল্লাহ্ ﷺ তার নাম তাঁর নিকটে থাকা একটি শুভ্র পুস্তিকায় লিপিবদ্ধ করে রাখেন। (বায়হাক্বী)
  • জুমু‘য়ার দিন ১০০ বার দুরূদ পাঠ করলে তার ১০০ বছরের গুনাহ ক্ষমা করা হবে। (দায়লামী)
  • ১০০ বার দুরূদ শরীফ পাঠ করলে জাহান্নাম তার থেকে পাঁচশত বছরের পথ দুরে সরে যাবে। (বুস্তানুল ওয়া‘য়িযীন)
  • ১০০ বার দুরূদ শরীফ পাঠ করলে তাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়। (ইবনু মাজাহ)
  • জুমু‘য়ার দিন ২০০ বার দুরূদ শরীফ পাঠ করলে তার ২০০ বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। (দায়লামী)
  • প্রতিদিন ৫০০ বার দুরূদ শরীফ পাঠকারী কখনো দরিদ্র হবে না। তার গুনাহগুলো শেষ করে দেয়া হবে। তার ভুলগুলো নিশ্চি‎হ্ন করে দেয়া হবে। তার আনন্দ স্থায়ী হবে। তার দুয়া ক্ববূল করা হবে। তার আশা পূরণ করা হবে। শত্রুর বিরুদ্ধে তাকে সাহায্য করা হবে। কল্যাণের উপকরণের ব্যাপারে তাকে সহযোগিতা করা হবে। আর সে ব্যক্তি তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে যারা জান্নাতে তাদের নবীর সাথী হবে। (আল-মুসতাত্বরাফ)
  • ১০০০ বার দুরূদ শরীফ পাঠকারীকে আল্লাহ তা‘য়ালা জাহান্নামের শাস্তি দিবেন না। (আল-মুসতাত্বরাফ, খ. ২, পৃঃ ৬১১)
  • ১০০০ বার দুরূদ শরীফ পাঠকারীকে আল্লাহ্ তা‘য়ালা জাহান্নামের জন্য হারাম করে দিবেন, জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, ক্ববরে সুয়াল জাওয়াবের সময় তাকে সঠিক জবাবের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখবেন এবং পাঠ করা দুরূদ শরীফ নূর হয়ে আগমন করবে যা তার জন্য পুলসিরাতকে পাঁচশত (বছরের) দূরত্ব পর্যন্ত আলোকিত করে দিবে। (বুসতানুল ওয়ায়েজীন, খ. ১ পৃঃ ২৮৪)
  • দৈনিক ১০০০ বার দুরূদ শরীফ পাঠকারী জান্নাতের সুসংবাদ না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবে না। (আবুশ শায়খ)
  • জুমু‘য়ার দিন ১০০০ বার দুরূদ শরীফ পাঠকারী জান্নাতে স্বীয় স্থান না দেখে মৃত্যুবরণ করবে না। (ইব্নু শাহীন ফীত্ তারগীব)
  • দুজন বান্দা যদি পরস্পর সাক্ষাৎ করে এবং নবী করীম ﷺ এর উপর দুরূদ শরীফ পড়ে, তাহলে তারা বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগেই তাদের পূর্বাপর গুনাহ ক্ষমা করা হয়। (আবূ ইয়া‘লা)
  • দুরূদ শরীফ পাঠ করা ভুলে যাওয়া কথাকে মনে করিয়ে দেয়। (ইব্নুস সুন্নী)