আয়াতুল কুরসী পাঠ করার ফযীলত:

  1. এ আয়াতের একটি জিহবা এবং দুটি ঠোঁট আছে, যার মাধ্যমে ‘আরশের পায়ার কাছে মহান মালিকের পবিত্রতা বর্ণনা করে। (মুসলিম)
  2. কোন ঘরে শয়ত্বান থাকা অবস্থায় এ আয়াত পাঠ করা হলে অবশ্যই শয়ত্বান বের হয়ে যায়। (তিরমিযী)
  3. আল্লাহ্ তা‘য়ালা বলেন, আয়াতুল কুরসী আমার বৈশিষ্ট্য। যে ব্যক্তি উহা পাঠ করবে সে ক্বিয়ামতের দিন কোন পর্দা ছাড়া সরাসরি আমাকে দেখবে। (নুযহাতুল মাজালিস)
  4. প্রত্যেক ফরয সালাতের পরে এ আয়াত পাঠ করলে ∙ তার জান্নাতে প্রবেশ করতে মৃত্যুবরণ করা ব্যতীত আর কোন বাধা থাকেনা। (নাসায়ী) ∙ আল্লাহ তা‘য়ালা স্বীয় কুদরতী হাতে তার জান ক্ববজের দায়িত্ব নেন। সে ঐ ব্যক্তির মর্যাদা পাবে যে ব্যক্তি আল্লাহর আম্বিয়া ও রসূলগণের পক্ষে যুদ্ধ করেছে এমনকি শাহাদাত বরণ করেছে। (দায়লামী) ∙ পরবর্তী সালাত পর্যন্ত আল্লাহর জিম্মায় থাকে। (তাবরানী) ∙ আল্লাহ তা‘য়ালা তাকে শোকরগুজার বান্দাদের ক্বলব, সিদ্দীকগণের ‘আমল, নবীগণের ছাওয়াব দান করেন এবং তার উপর স্বীয় রহমাতের দক্ষিণ হস্ত প্রসারিত করেন। মৃত্যুবরণ করা ছাড়া তাকে জান্নাতে প্রবেশে কোন কিছুই বাধা দিবে না। (মৃত্যুর পর) সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (আদ-র্দুরুল মানছুর) ∙ তার জন্য সপ্ত আকাশ ফেটে যাবে এবং তার প্রতি আল্লাহ তা‘য়ালা রহমতের দৃষ্টি না দেয়া পর্যন্ত তাতে জোড়া লাগবে না। (নুযহাতুল মাজালিস)
  5. বিছানায় শোয়ার সময় এ আয়াত পাঠ করলে ∙ আল্লাহ তা‘য়ালার পক্ষ থেকে একজন হিফাজতকারী (ফিরিশতা) নিযুক্ত থাকবেন এবং সকাল পর্যন্ত শয়ত্বান তার নিকটে আসতে পারবে না। (বুখারী) ∙ আল্লাহ তা‘য়ালা তার সাথে সকাল পর্যন্ত দুজন ফিরিশতা নিযুক্ত করবেন যারা তাকে হেফাযত করবে। (আদ-র্দুরুল মানছূর) ∙ আল্লাহ তা‘য়ালা তার বাড়ি, তার প্রতিবেশীর বাড়ি এবং তার আশপাশের বাড়িগুলোকে নিরাপদে রাখবেন। (বায়হাক্বী) ∙ আল্লাহ তা‘য়ালা সকাল পর্যন্ত তাঁর জন্য রহ্মাতের দ্বার উন্মুক্ত করে দিবেন এবং তাঁর দেহের প্রত্যেক পশমের বিপরীতে সে নূরের একটি শহর লাভ করবে। সে রাতে তার মৃত্যু ঘটলে সে শাহাদাতের মৃত্যু লাভ করবে। (নুযহাতুল মাজালিস) ∙ ১৭০ বার পাঠ করলে, আল্লাহ্ তা‘য়ালা তাকে ঋণ মুক্ত করে দিবেন। (নুযহাতুল মাজালিস)
  6. অযূর শেষে এ আয়াত পাঠ করলে ∙ আল্লাহ তা‘য়ালা তাকে ৪০ জন ‘আলিমের ছাওয়াব দান করবেন। তার মর্যাদা ৪০ ধাপ বৃদ্ধি করে দিবেন এবং ৪০ জন হুরকে তার সাথে বিয়ে দিবেন। (দায়লামী) ∙ আল্লাহ তা‘য়ালা উহার প্রতিটি অক্ষর থেকে একজন ফেরেশতা সৃষ্টি করবেন, যে ক্বিয়ামত পর্যন্ত তার জন্য মাগফিরাতের দু‘য়া করতে থাকবে। (নুযহাতুল মাজালিস)
  7. সকালে ‘হামীম আল মুমিন’ (এর শুরু) থেকে ‘ইলাইহিল মাসীর’ পর্যন্ত এবং এ আয়াত পাঠ করলে এ দুটির মাধ্যমে সন্ধ্যা পর্যন্ত হেফাযত করা হবে। আর সন্ধ্যায় উহা পাঠ করলে তাকে এ দুটির মাধ্যমে সকাল পর্যন্ত হেফাযত করা হবে। (তিরমিযী)
  8. সূরা বাক্বারার প্রথম থেকে চার আয়াত, আয়াতুল কুরসী, আয়াতুল কুরসীর পরের দুআয়াত, সূরা বাক্বারার শেষ তিন আয়াত পাঠ করলে ঐদিন শয়ত্বান তার এবং তার পরিবারের নিকটবর্তী হতে পারবে না। সে অপছন্দ করে এমন কোন কিছু তার পরিবার এবং সম্পদের নিকটবর্তী হতে পারবে না। কোন পাগলের উপর এগুলো পাঠ করা হলেই তার হুঁশ ফিরে আসবে। (তাবরানী)
  9. কোন খাদ্য এবং কোন তরকারীর উপর এ আয়াত পাঠ করলেই আল্লাহ তা‘য়ালা ঐ খাদ্য এবং তরকারীর বরকত বৃদ্ধি করে দেন। (আদ-দুররুল মানছূর)
  10. এ আয়াত পাঠকারীকে, তার সন্তান সন্ততিকে হেফাজত করবে। তার আশপাশের বাড়িসহ তার বাড়িকে রক্ষা করবে। (আদ-র্দুরুল মান্ছূর)
  11. বিপদের সময় এ আয়াত এবং সূরা বাক্বারার শেষাংশ (লিল্লাহি মা ফিস সামাওয়াতি থেকে শেষ পর্যন্ত) পাঠ করলে আল্লাহ তা‘য়ালা তাকে সাহায্য করবেন। (কানযুল ‘উম্মাল)
  12. যে ইচ্ছা করে তার ঘর বরকত ও কল্যাণে পরিপূর্ণ হোক, সে যেন বেশি বেশি এ আয়াত তিলাওয়াত করে। (নুযহাতুল মাজালিস)
  13. সূর্যাস্তের সময় ৪০ বার এ আয়াত পাঠ করলে, আল্লাহ তা‘য়ালা তাকে ৪০ টি হজ্জ্বের ছাওয়াব দান করবেন। (নুযহাতুল মাজালিস)
  14. যে ব্যক্তি ঘর থেকে বের হওয়ার সময় এ আয়াত পড়ে বের হবে, আল্লাহ তা‘য়ালা তার জন্য ৭০ হাজার ফেরেশতা নিযুক্ত করে দেন। যারা তাকে চার দিক থেকে হেফাজত করে। অন্য বর্ণনায় আছে, ৭০ হাজার ফেরেশতা তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং দু‘য়া করতে থাকে। ঘরে ফিরে আসার পূর্বে তার মৃত্যু হলে আল্লাহ্ তা‘য়ালা তাকে ৪০ জন শহীদের ছাওয়াব দান করেন। (নুযহাতুল মাজালিস)
  15. কোন ব্যক্তি ঘরে ফিরে এসেও এ আয়াত পাঠ করলে আল্লাহ তা‘য়ালা তার সম্মুখ থেকে অভাব দূর করে দেন। (নুযহাতুল মাজালিস)
  16. মৃত্যু রোগের মাঝে এ আয়াত পাঠ করলে, আল্লাহ তা‘য়ালা তার মৃত্যুযাতনা সহজ করে দেন। (নুযহাতুল মাজালিস)
  17. যে ঘরে এ আয়াত পড়া হয় সে ঘরের উপর দিয়ে ফেরেশতাগণ অতিক্রম করলে তারা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ায়। (নুযহাতুল মাজালিস)
  18. ১ বার এ আয়াত পাঠ করলে, আল্লাহ তা‘য়ালা তার থেকে ১০০০ দুনিয়াবী কষ্ট দূর করে দেন। যার মধ্যে সর্বনি¤œটি হল দারিদ্র। আর আখেরাতের ১০০০ কষ্ট দূর করে দেন। যার মধ্যে নি¤œতমটি হল কবরের আযাব। (নুযহাতুল মাজালিস)
  19. ১ বার এ আয়াত পাঠ করলে, পাপীদের দফতর থেকে তার নাম কেটে দেয়া হয়। ২ বার পাঠ করলে তার নাম নেককারদের দফতরে লিখে দেয়া হয়। ৩ বার পাঠ করলে তার জন্য ফেরেশতাগণ ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে। ৪ বার পাঠ করলে তার জন্য নবীগণ সুপারিশ করবেন। ৫ বার পাঠ করলে তার নাম অলীদের দফতরে লিপিবদ্ধ করা হয়। ৬ বার পাঠ করলে তার জন্য সমুদ্রের মাছ ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং সে শয়তানের যাবতীয় অনিষ্ট হতে নিরাপদ থাকে। ৭ বার পাঠ করলে তার জন্য জাহান্নামের সপ্ত দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। ৮ বার পাঠ করলে তার জন্য জান্নাতের ৮ টি দরজাই উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। ৯ বার পাঠ করলে সে ইহকালীন ও পরকালীন যাবতীয় দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত হয়ে যায়। ১০ বার পাঠ করলে তার প্রতি আল্লাহ্ তা‘য়ালার রহমতের দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়। ফলে তিনি তাকে আর কখনো শাস্তি দেন না। (নুযহাতুল মাজালিস)
  20. ভ্রমণের পথে শত্রুর ভয় থাকলে, এ আয়াত ও সূরাহ্ কুরাইশ পাঠ করলে এ দুটি যাবতীয় অনিষ্ট হতে রক্ষাকবচ হয়ে যাবে। (নুযহাতুল মাজালিস)
  21. যখন মুমিন ব্যক্তি আয়াতুল কুরসী পাঠ করে উহার ছাওয়াব কবরবাসীদের জন্য বখশিশ করবে তখন আল্লাহ তা‘য়ালা পূর্ব এবং পশ্চিমের প্রত্যেক কবরে ৪০ টি নূর প্রবেশ করাবেন। আল্লাহ তা‘য়ালা তাদের শয়নস্থলকে প্রশস্ত করে দিবেন। আর পাঠকারীকে ৬০ জন নবীর ছাওয়াব দান করবেন। আর প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে আল্লাহ তা‘য়ালা তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিবেন। আর তার জন্য প্রত্যেক মৃতের বিপরীতে ১০ টি সৎকাজ লিখে দিবেন। (নুযহাতুল মাজালিস)
  22. যখন আল্লাহ তা‘য়ালা যমীন সৃষ্টি করলেন তখন তা কাঁপতে লাগল। তখন যমীনে ৭০ হাজার ফেরেশতা পাঠালেন উহাকে ধরে রাখার জন্য। কিন্তু তারা সক্ষম হন নি। তারপর আবার ৭০ হাজার পাঠালেন। তারাও সক্ষম হলেন না। তখন আল্লাহ তা‘য়ালা ক্বাফ নামক পাহাড় সৃষ্টি করলেন এবং উহাকে দুনিয়া দ্বারা বেষ্টন করে দিলেন। আর উহার চারপাশে ৪৪০ টি পাহাড় সৃষ্টি করলেন। তারপরেও যমীন স্থির হলো না। এরপর উহার উপরে আয়াতুল কুরসী লিখে দিলেন, ফলে তা স্থির হল। সুতরাং যে ব্যক্তি আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে তার জন্য ক্বাফ নামক পাহাড়ের সমান এবং ঐ পাহাড়গুলোর সমান ছাওয়াব হবে। আর সে ঐ ফেরেশতাগণের তাসবীহ্ পাঠের সমান ছাওয়াব পাবে। এছাড়াও আরো ১ লক্ষ ৪০ হাজার ফেরেশতার তাসবীহ পাঠের ছাওয়াব এবং সূর্য ও চাঁদ যত জিনিসের উপরে উদিত হয় তত সংখ্যায় ছাওয়াব পাবে। (নুযহাতুল মাজালিস)
  23. নিয়মিত দিনে বা রাতে ১০ বার সূরা ইখলাস ও আয়াতুল কুরসী পাঠ করলে ◼ পাঠকারী আল্লাহর সন্তুষ্টি আবশ্যক করে নিবে। (আদ-দুররুল মানছূর) ◼ সে নবীগণের সাথী হবে। (ঐ) ◼ তাকে শয়তান থেকে রক্ষা করা হবে। (ঐ)