About Tarika Madinar Jamat

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

ত্বরীক্বায়ে মদীনার জামায়াত

পরিচিতি:

ত্বরীক্বায়ে মদীনার জামা‘য়াত চার ত্বরীক্বার সমন্বয়ে আরো উন্নত পদ্ধতির একটি তাওয়াজ্জুহ ভিত্তিক উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ত্বরীক্বা। যা ইলমে মা‘রেফাত তথা আল্লাহ ও রাসূল প্রাপ্তির জন্য এক অনন্য মাধ্যম। এটা আধুনিক ব্যস্ততার যুগের মানুষদের জন্য স্বল্প সময়ে তাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে খুবই সহায়ক। এ ত্বরীক্বায় লত্বীফার অবস্থান চিশতিয়া ও ক্বাদেরিয়া ত্বরীক্বার ন্যায়, আর তাওয়াজ্জুহ্ এর সিস্টেম হচ্ছে নকশেবন্দিয়া ও মুজাদ্দিদিয়া ত্বরীক্বার ন্যায়।

প্রতিষ্ঠাতা ইমাম: শায়খুল আসরার, কুদওয়াতুস সালিকীন, জুবদাতুল ‘আরিফীন, রসূল নোমা, মুহ্ইউল কুলূব, কুত্ববুল মাশায়িখ, আল-গাউছ, ‘আল্লামা ডাক্তার মুহাম্মাদ বদি‘উজ্জামান (রহমাতুল্লাহি ‘আলাইহি)

সন্তান-সন্তুতি: তাঁর দু’পুত্রের মাঝে বড় পুত্র পরলোক গমন করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজি‘উন। ছোট পুত্র ত্বরীক্বতের কাজ করে যাচ্ছেন। (ডিসেম্বর, ২০১৯)

ইমামুত ত্বরীক্বতের মাজার শরীফ: মিরওয়ারিশপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।

ইমামুত ত্বরীক্বতের ওফাত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৩ ‘ঈসায়ী; ১৭ জিলহজ্জ, ১৪০৩ হিজরী।

ইমামুত ত্বরীক্বতের পীরগণ: তাঁর পীর হলেন মোট ৩ জন

১. ইমামুত ত্বরীক্বতের প্রথম শায়খ হচ্ছেন, কুমিল্লা জিলার মাজ্জুবপীর হিসেবে খ্যাত হযরত আম্বর আলী শাহ্ (রহ.)। যার মাযার শরীফ কুমিল্লা জিলার চকবাজারের পূর্ব দিকে অবস্থিত।

২. ইমামুত ত্বরীক্বতের দ্বিতীয় শায়খ হচ্ছেন, ফুরফুরা শরীফের আ‘লা হযরত আবু বকর সিদ্দীকী ফুরফুরাভী (রহ.)। তিনি রূহানীভাবে ইমামুত ত্বরীক্বতকে উচ্চ মাক্বামের অলী হিসেবে জানতে পারেন। তাই তিনি দু’জন লোক পাঠিয়ে কোন এক মাহফিলে তাঁকে হুজুরের নিকট আসার জন্য দাওয়াত করেন। হুজুরের মাহফিল চলাকালীন অবস্থায় তিনি হাজির হলে সকলকে পথ করে দিতে বলেন এবং স্টেইজেই নিজের কাছে বসান। তাঁর বিশিষ্ট খলীফা ছারছীনা শরীফের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা নেছার উদ্দীন আহমাদ (রহ.) ও চব্বিশ পরগনার বিশিষ্ট খলীফা মাওলানা মুহাম্মাদ রূহুল আমীন বশিরহাটি (রহ.) এর উপস্থিতিতে ত্বরীক্বতের কাজ করার জন্য তাঁকে খেলাফত প্রদান করেন।

৩. ইমামুত ত্বরীক্বতের তৃতীয় পীর হলেন, জৌনপুর খান্দানের বিশিষ্ট বুজুর্গ হাফিজ আহমাদ জৌনপুরী (রহ.) এর ছেলে আব্দুর রব জৌনপুরী (রহ.)। তিনিও আল-হাজ্জ ডা. বদি‘উজ্জামান (রহ.)কে খেলাফত প্রদান করেন।

ইমামুত ত্বরীক্বতের খোলাফায়ে কিরাম: আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. সাইয়্যেদ ‘আলী আশরাফ (রহ.)কে মদীনার জামাতের আমীর বানিয়ে  মোট ২৯ জনকে তিনি খিলাফত প্রদান করেন। যারা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ত্বরীক্বতের খিদমাতের আঞ্জাম দিয়ে অনেকেই পরলোক গমন করেছেন। তাঁদের খুলাফাগণ পরবর্তীতে তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ত্বরীক্বতের কাজ করে যাচ্ছেন।

ডা. মুহাম্মাদ বদিউজ্জামান (রহ.) এর ত্বরীক্বা প্রাপ্তি:

ইমামুত্ ত্বরীক্বত ডা. মুহাম্মাদ বদি‘উজ্জামান (রহ.) ছাত্রকালীন অবস্থায় কুমিল্লা শহরের নিকটে অবস্থিত জামানার কুতুব মাজ্জুব অলী শায়েখ সূফী ‘আম্বর ‘আলী শাহ্ (রহ.) এর সাথে সাক্ষাত লাভ করেন। যিনি একদা রাত্রি বেলায় ইমামুত ত্বরীক্বতকে এক লোকমা খাবার খাওয়ানোর মাধ্যমে ‘ইলমে বেলায়েতের এত্তেহাদী ফায়েয ও তাওয়াজ্জুহ্ দান করেছিলেন। খাবার গ্রহণের পর ‘এশকে এলাহীতে নিমজ্জিত হয়ে মাজ্জুবী হালে বেহুশ হয়ে যান। শায়েখ ওনাকে ঐ অবস্থায় আরাকানের জঙ্গলে নিয়ে যান। সেখানে অনেক আওলিয়ায়ে কিরামগণের রূহানী সোহবাত ও ফায়েয লাভ করেন এবং ক্রমান্বয়ে ত্বরীক্বতের উচ্চ শিখরে উন্নতি লাভ করেন। এসময় তিনি হযরত খিজির ‘আলাইহিস সালামেরও সাক্ষাত লাভ করেন। বেহুশী অবস্থায় সাড়ে তিন বছর অতিবাহিত করেন। পরবর্তীতে নিজের জন্মস্থানে এসে ত্রিশ বছরকাল মোরাক্বাবা-মোজাহাদায় অতিবাহিত করেন। এসময় বিশেষভাবে একটানা ১৫ বছর যাবত দুরূদে উম্মী শরীফের মোরাক্বাবা করেন। যার ফলে আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূল ﷺ এর নূরানী দীদার, সন্তুষ্টি ও কুরবাত হাসিল করেন। পরবর্তীকালে একদা খাজা খিজির ‘আলাইহিস সালামের মাধ্যমে রহমাতুল্লিল ‘আলামীন ﷺ এর পক্ষ থেকে মাদীনা মুনাওয়ারার যিয়ারতের দাও‘য়াত লাভ করেন।

ইমামুত ত্বরীক্বত দাও‘য়াত প্রাপ্তির সাথে সাথে হজ্জ করার নিয়াত করেন। পরবর্তীতে আল্লাহর অনুগ্রহে হজ্জের খরচের ব্যবস্থা হয়ে যায়। হজ্জে বাইতুল্লাহর পর মদীনা শরীফ যিয়ারতের সৌভাগ্য হয়ে যায়। মদীনায় অবস্থানকালীন একদা রাত্রিবেলায় আল্লাহর হাবীব ﷺ এর নূরানী দিদার লাভ করেন এবং এত্তেহাদী ওয়াইসি ফায়েয লাভ করেন। ফেৎনার জমানায় উম্মাতের নাজাত লাভের জন্য এত্তেহাদী তাওয়াজ্জুহ ভিত্তিক সংক্ষিপ্ত সবকবিশিষ্ট ‘ইলমে বেলায়েতের পূর্ণাঙ্গ প্রাপ্তি সম্বলিত ত্বরীক্বা প্রাপ্ত হন।

মদীনার জামায়াতের বৈশিষ্ট্য:

  • এ ত্বরীক্বায় মারেফাত হাসিল করতে বছরকে বছর তাওয়াজ্জুহ বিহীন মৌখিক যিকির করার সবক প্রদান করা হয় না
  • ত্বরীক্বতের সবকসমূহ (ক্বালবী যিকির থেকে বাক্বা বিল্লাহ্) প্রাপ্ত হতে মৌখিক যিকির করার প্রয়োজন হয় না।
  • এ ত্বরীক্বায় ইলমে মারেফাত অর্জিত হয় শায়খের ফায়েয ও তাওয়াজ্জুহের মাধ্যমে।
  • শুরুতেই শায়েখ সালেকদেরকে ক্বালব থেকে তাওয়াজ্জুহ্ প্রদান করেন।
  • শয়খের নিকট থেকে প্রথম তাওয়াজ্জুহ্ গ্রহণে ক্বালবসহ অন্যান্য লত্বীফাসমূহে যিকির জারী হয়।
  • শায়খের তাওয়াজ্জুহের মাধ্যমে যিয়ারাতুল আরওয়াহ, সায়েরে আফাক্ব এবং সায়েরে আনফুসী, সায়ের ‘আনিল্লাহ্, সয়ের ফিল্লা্হ্, ফানাফিল্লাহ্ ও বাক্বা বিল্লাহ্ হাসিল হয়।
  • শায়খের তাওয়াজ্জুহের মাধ্যমে ইলমে বেলায়েত, ইলমে হাক্বীক্বত, ইলমুল আসরার, ইলমুল ইরফান, ইলমুল মুকাশাফা, ইলমুল ইহসান হাসিল হয়।

ত্বরীক্বায়ে মদীনার জামায়াতের সবকসমূহ:

. যিকরুল লাত্বাইফ (পাঁচ লত্বিফা তথা ক্বালব, রূহ, সির, খফী ও আখফা এর মাঝে যিকির),

. আরবায়া আনাছির (চার লত্বিফা তথা আব, আতশ, খাক, বাদ এর মাঝে যিকির),

. সুলত্বানুল আযকার (পা থেকে মাথা পর্যন্ত প্রতিটি প্রতিটি সেল ও লোম আল্লাহর যিকির অনুভব করা ও কানে শ্রবনকরা),

. আনওয়ারুল লাত্বাইফ (লত্বীফাসমূহে নূর লাভ করা যার মাধ্যমে কাশফ অর্জিত হয়),

. যিয়ারাতুল আরওয়াহ্ (আম্বিয়া-মুরসালীন, সালাফ সালিহীন ও বুজুর্গানে দ্বীনগণের সাথে রূহানী সাক্ষাত),

. সায়েরে আনফুসী (পৃথিবী পৃষ্ঠে রূহানীভাবে ভ্রমণ করা),

. সায়েরে আফাক্বী (উর্ধ্বজগত ভ্রমণ করা),

. ফানা ফিল্লাহ্ (রূহানীভাবে আল্লাহর নূরের মাঝে বিলীন হয়ে যাওয়া),

. বাক্বা বিল্লাহ্ (রূহানীভাবে আল্লাহর নূরের মাঝে অবস্থান করা)।

ইমামুত ত্বরীক্বতের মাজার শরীফ প্রাঙ্গণে (মিরওয়ারিশপুর, নোয়াখালী) বার্ষিক মাহফিল:

প্রত্যেক বছর ফাল্গুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার মোট তিন দিন বার্ষিক মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

ত্বরীক্বা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা: যে সকল কারণে ত্বরীক্বা গ্রহণ করা অপরিহার্য

১. ক্বালব থেকে শয়তানী ওয়াসওয়াসা দূর করার লক্ষ্যে,

২. ক্বালব থেকে কু-রিপুসমূহ দূর করার লক্ষ্যে,

৩. ক্বালবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘য়ালার ইসমে জাতের যিকির জারী করার লক্ষ্যে,

৪. নফসকে দমন করে আত্মশুদ্ধি অর্জন করার জন্য।

৪. ক্বালবের মাঝে যাবতীয় উত্তম স্বভাব অর্জন করার লক্ষ্যে,

৫. ঈমানের সাথে মৃত্যুবরণ করে পরকালীন চূড়ান্ত সফলতা লাভ করার লক্ষ্যে।

ত্বরীক্বা গ্রহণের উপকারিতা: ত্বরীক্বা গ্রহণ করলে-

  • শয়ত্বানের ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়,
  • ‘ইবাদাতে বিনয় ও একাগ্রতা হাসিল হয়,
  • ক্বালবে সালীম, নফসে মুত্বমাইন্নাহ্ ও হাক্কুল ইয়াক্বীন অর্জিত হয়,
  • হাক্বীক্বী ‘ইলম অর্জিত হয়ে সঠিক ‘আক্বীদা এবং আমল সম্পর্কে জানা যায়।
  • আল্লাহ্ ও রসূল ﷺ এর নূরানী দিদার ও কুরবাত লাভ করা যায়।

আল্লাহ তা‘য়ালা আমাদেরকে হক্কানী শায়খের নিকট বাইয়াত হয়ে তাঁর নিকট থেকে ফায়েয গ্রহণ করে ‘ইলমে মা‘রেফাত হাসিলের মাধ্যমে তাঁর প্রিয় বান্দা এবং তাঁর হাবীব ﷺ এর প্রিয় উম্মাত হওয়ার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন! বিহুরমাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন!!

মাওলানা মুহাম্মাদ হুমায়ুন কবির খান কামিল (হাদীস); বি.এ (অনার্স); এম.এ (ঢা.বি.); প্রথম শ্রেণী। পীর সাহেব, নূরপুর দরবার শরীফ খলীফা- ত্বরীক্বায়ে মদীনার জামায়াত ২৮/৮৮ নূরপুর, দক্ষিণ দনিয়া, কদমতলী, ঢাকা-১২৩৬।

Mawlana Muhammad Humayun Kabir Khan Kamil (Hadith); B.A (Honours); M.A (DU); First Class Pir Shaheb, Nurpur Darbar Sharif Khalifa- Tarika Madinar Jamat 28/88 Nurpur, Dakhhin Donia, Kodomtoli, Dhaka 1236