About Khanka Madania Quasemia

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

খানকায়ে মাদানিয়া কাসেমিয়া

কার্যক্রম:

‘ইলমে শরী‘য়াত ও ‘ইলমে মা‘রেফাতের তা‘লীম, তাওয়াজ্জুহ্, লত্বীফার যিকির, মুরাক্বাবা, ঈসালে ছাওয়াব, মীলাদ মাহফিল ও ইসলামী পর্বসমূহ উদযাপন।

সাপ্তাহিক তালীম ও তাওয়াজ্জুহ্ মাহফিল: প্রতি বৃহস্পতিবার বাদ ‘আসর।

 

ইলমের প্রকারভেদ:

‘ইলম দুই প্রকার।

১. ‘ইলমে শরী‘য়াত: কুরআন মাজীদ আল্লাহ তা‘য়ালার বাণী এবং হাদীস শরীফ রসূলুল্লাহ্ ﷺ এর বাণী।

২. ‘ইলমে মা‘রেফাত বা ‘ইলমুল বাত্বেন (ক্বালবী জ্ঞান): যা ইলহাম, ইলক্বা ও তাওয়াজ্জুহ্ গ্রহণ করে মুরাক্বাবার মাধ্যমে অর্জিত হয়।

এ সম্পর্কে হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে:

হযরত হাসান আল-বাসরী (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু) হতে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেছেন: “ ‘ইলম দু’প্রকার। ১. ‘ইলমুল ক্বালব (‘ইলমে মা‘রেফাত), আর উহাই হচ্ছে উপকারী ২. ‘ইলমুল লিসান। আর উহা বান্দাদের কাছে আল্লাহর যাত ও সিফাতের দলীল।” (মুসান্নাফু ইবনি আবী শায়বাহ, হাদীস নং ৩৪৩৬১)

হাদীসে কারীমা প্রমাণ করে যে, ‘ইলম দু’প্রকার।

প্রথম প্রকার ‘ইলমে শরী‘য়াত (কুরআন, হাদীস) যা মুখস্থ করতে হয় এবং ব্রেইনের সাথে সম্পর্কিত। উহা উস্তাদের ব্রেইন থেকে জবানের মাধ্যমে ছাত্রের ব্রেইনে সংরক্ষিত হয়।

দ্বিতীয় প্রকার ইলমে মা‘রেফাত। যা ক্বালবের সাথে সম্পর্কিত। উহা শায়খের তাওয়াজ্জুহ্ এর মাধ্যমে শায়খের ক্বালব থেকে সালেকের ক্বালবে আসে। যার ফলে সালেকের ক্বালবের জিকির থেকে শুরু করে মোকাশাফার মাধ্যমে বাক্বা বিল্লাহ পর্যন্ত মা‘রেফাতের সবকসমূহ হাসিল হয় এবং পরিপূর্র্ণ আত্মশুদ্ধি লাভ করা যায়। অতএব সকল প্রকার যিকরে লিসান বা মৌখিক যিকির ‘ইবাদাত শরী‘য়াতের ‘অন্তর্ভূক্ত। আর ক্বালবের যিকির মা‘রেফাতের অন্তর্ভূক্ত। সারকথা: মৌখিক যিকির শরী‘য়াত এবং ক্বালবের যিকির মা‘রেফাত।

লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, মা‘রেফাতের নামে শায়খের পক্ষ থেকে তাওয়াজ্জুহ বিহীন মৌখিক যিকির ও সবকাদির মধ্যে ছাওয়াব পাওয়া গেলেও তা দ্বারা ‘ইলমে মা‘রেফাত অর্জিত হয় না।

ইলমে মারেফাত পরিচিতি:

মা‘রেফাত শব্দটি আরবী ‘উরফুন শব্দ থেকে নির্গত। এর আভিধানিক অর্থ হল, পরিচয় লাভ করা। পরিভাষায়: যে ইলমের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা এবং তাঁর হাবীব (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর দীদার ও কুরবাত হাসিল হয় তাকে ইলমে মারেফাত বলে

খানকা শরীফে ইলমে মারেফাতের কার্যক্রম:

* তাযকিয়া-ই নাফস্ বা আত্মশুদ্ধি এবং ক্বালবের কু-রিপুসমূহ দূরীকরণের লক্ষ্যে ‘তাওয়াজ্জুহ্’ভিত্তিক বিভিন্ন প্রকার তা‘লীম প্রদান;

* তাওয়াজ্জুহ্ এর মাধ্যমে সালেকদের খফী (ক্বালবী) যিকিরের সবক প্রদান;

* ত্বরীক্বার নিসবত অনুযায়ী মা‘রেফাতের বিভিন্ন মাক্বাম তথা ক্বালব, রূহ্, সির, খফী, আখ্ফা, নফস, আব্, আতশ, খাক, বাদ ইত্যাদি লত্বীফাসমূহে সার্বক্ষণিক যিকির হাসিল এবং সুলত্বানুল আযকার (সর্বশরীরে যিকির) প্রাপ্তির লক্ষ্যে মুরাক্বাবার তা‘লীম প্রদান;

* ক্বালবকে যাবতীয় শয়ত্বানী ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্ত রাখা এবং নিজেকে নফসে আম্মারার খারাপী থেকে রক্ষা করা ও কু-রিপুসমূহ যেমন- হিংসা, বিদ্বেষ, লোভ, লালসা, রিয়া, অহংকার, কৃপণতা, ক্রোধ ইত্যাদি দূর করার জন্য বিশেষ সবক প্রদান;

* সালাতসহ সকল ‘ইবাদাতে একাগ্রতা অর্জনের লক্ষ্যে বিশেষ তা‘লীম প্রদান।

ইলমে শরীয়াতের কার্যক্রম:

* সব বয়সী মানুষদেরকে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় ‘ইলমে শরী‘য়াত শিক্ষাদান;

* সহীহ্ শুদ্ধভাবে পবিত্র কুরআনের তিলাওয়াত এবং বিষয়ভিত্তিক প্রয়োজনীয় হাদীস শরীফের তা‘লীম প্রদান;

* কুরআন ও সুন্নাহর দলীলভিত্তিক বিশুদ্ধ ‘আক্বীদার তা‘লীম প্রদান;

* কুরআন, সুন্নাহ্, ইজমা‘ ও ক্বিয়াসের প্রয়োজনীয় জ্ঞান শিক্ষাদান এবং তদনুযায়ী জীবন গঠনের তা‘লীম ও তালক্বীন প্রদান;

* ঈমান, ‘আক্বীদা ও ‘আমলের সকল ক্ষেত্রে আউলিয়ায়ে কামিলীনের অনুসৃত পথ অনুসরণের প্রয়োজনীয় তা‘লীম প্রদান;

* দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় ইসলামী মাসায়িল শিক্ষা প্রদান;

* ইসলামের বিভিন্ন মৌলিক বিষয়ের উপর গবেষণা;

* শরী‘য়াত ও ত্বরীক্বতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দলীল ভিত্তিক পুস্তক রচনা ও প্রকাশ;

* মুসলিম মনীষীগণের লিখিত কিতাব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও ইসলামী বিভিন্ন দিবস উপলক্ষ্যে বিশেষ মাহফিলের আয়োজন।

ইলমে মারেফাত প্রাপ্তির উপায়:

* তাওয়াজ্জুহ্ দানে সক্ষম, কুরআন-হাদীস ও ফিক্বহের জ্ঞানসম্পন্ন শরী‘য়াতের পাবন্দ হক্কানী শায়খের নিকট বাই‘য়াত গ্রহণ করা;

* শায়খের নিকট বসে তাঁর ক্বালব থেকে যিকিরের ও নূরের ফায়েয গ্রহণ করা;

* যথাসম্ভব বেশি বেশি শায়খের সোহবাত গ্রহণ করে তাওয়াজ্জুহ্ ও ফায়েয নেয়া;

* নিজের ক্বালবকে শায়খের ক্বালবের সাথে সর্বদা সংযোগ করে রাখা;

* ঈমান, ‘আক্বীদা ও ‘আমলে সর্বদা শায়খের অনুসরণ করা;

শায়খে কামিলের তাওয়াজ্জুহ্ গ্রহণের উপকারিতা:

* ক্বালবসহ লত্বীফাসমূহে সার্বক্ষণিক যিকির অনুভব করা;

* ক্বালব ও লত্বীফাসমূহে নূর, মুকাশাফা ও মুশাহাদা অর্জন হওয়া;

* সালাতসহ অন্যান্য ‘ইবাদাতে একাগ্রতা সৃষ্টি হওয়া;

* শয়ত্বানী ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্ত থাকার সক্ষমতা অর্জন হওয়া;

* পাপ কাজের প্রতি ঘৃণা এবং নেক ‘আমল ও সুন্নাতের প্রতি আগ্রহী হওয়া।

* আল্লাহ্ তা‘য়ালা ও রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর নূরানী দিদার ও কুরবাত হাসিল করা।

মাওলানা মুহাম্মাদ হুমায়ুন কবির খান কামিল (হাদীস); বি.এ (অনার্স); এম.এ (ঢা.বি.); প্রথম শ্রেণী। পীর সাহেব, নূরপুর দরবার শরীফ খলীফা- ত্বরীক্বায়ে মদীনার জামায়াত ২৮/৮৮ নূরপুর, দক্ষিণ দনিয়া, কদমতলী, ঢাকা-১২৩৬।

Mawlana Muhammad Humayun Kabir Khan Kamil (Hadith); B.A (Honours); M.A (DU); First Class Pir Shaheb, Nurpur Darbar Sharif Khalifa- Tarika Madinar Jamat 28/88 Nurpur, Dakhhin Donia, Kodomtoli, Dhaka 1236